ইসলাম ধর্ম

‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ এবং এই শব্দের উৎপত্তি আরবি শব্দমূল ‘সলম’ থেকে যার অর্থ শান্তি। ইসলামিক পরিভাষায় একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে শান্তি লাভ করার ধর্মকেই বলা হয় ইসলাম ধর্ম। একমাত্র আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস এবং মুহাম্মদ(সাঃ) কে সর্বশেষ বার্তাবাহক(স্রষ্টার) বলে মেনে নেয়াটা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। যারা এই ধর্ম অনুসরণ করে তাদেরকে বলা হয় মুসলিম।

সাতটি বিষয়ের উপর বিশ্বাস

মুসলিমরা সাতটি বিষয়ে কোন শর্ত ছাড়াই বিশ্বাস করে, এর উপর ভিত্তি করে অন্যন্য বিষয়ে তারা যুক্তি দিয়ে বিচার করার চেষ্টা করে

  1. আল্লাহঃ একক ও অন্যন্য। তার কোন মূর্তি, ছবি বা, প্রতিবিম্ব নেই। আল্লাহর বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের পক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না।
  2. ফেরেশতাঃ অসংখ্য ফেরেশতা রয়েছেন যারা আল্লাহর নির্দেশে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আছেন। মানুষের মত তাদের ভালো-মন্দ কাজের ক্ষমতা নেই, শুধু আল্লাহর নির্দেশই তারা পালন করেন।
  3. রাসূলগণঃ মানুষের মধ্য থেকে বেছে নেয়া আল্লাহর প্রতিনিধি যারা, আল্লাহর বার্তা মানুষের কাছে পৌছে দেয়। কিতাবগুলো তাদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
  4. কিতাবসমূহঃ রাসূলগণের কাছে জিব্রাইল ফেরেশতার মাধ্যমে আসা বাণী যা, বই আকারে পাওয়া যায়। মোট ১০৪ টি কিতাব সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে চারটি বড়। শেষ কিতাব কুরআন হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর কাছে এসেছে।
  5. আখিরাতঃ মৃত্যু পরবর্তী জীবন যেখানে মানুষের এই জীবনের ভাল-মন্দ কাজের ভিত্তিতে বিচার করা হবে এবং পুরষ্কার বা, শাস্তি দেয়া হবে
  6. ভাগ্যের ভালো মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিতঃ মানুষ তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। চেষ্টা করলে যেকোন কাজেই মানুষ সাধারণত সফলতা পায়।
  7. শেষ বিচারের দিন পুনরুত্থানের উপরঃ কিয়ামতের পর সব মানুষ আবার পুনরুত্থিত হবে। কিয়ামত হচ্ছে মহাপ্রলয়ের সময় যে সময় পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

পাঁচটি স্তম্ভের উপর এই ধর্ম প্রতিষ্টিত

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস

Photo Credit: Wikimedia Commons

  1. বিশ্বাসের ঘোষণা (কালিমা বা, শাহাদাহ)
  2. বাধ্যতামূলক উপাসনা(নামাজ)
  3. বাধ্যতামূলক গরীব মানুষদের ধনীদের সম্পদ থেকে একটি ছোট অংশ দেয়া(যাকাত)
  4. রামাদান (রমজান) মাসে রোজা রাখা
  5. শারিরিক এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকলে মক্কায় হজ্জ করা

ধারাবাহিকতা

ইসলাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দে ৪০ বছর বয়স্ক মুহাম্মদ(সাঃ) এর প্রবর্তিত কোন ধর্ম নয়, এটি ধারাবাহিকতার অংশ(মুসলিমরা এটাই বিশ্বাস করে, অন্যদের বিশ্বাস আলাদা)। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম(আঃ) থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অসংখ্য নবী মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য এসেছেন। পৃথিবীর সব জাতির মধ্যে আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেছেন। সর্বশেষ ও চুড়ান্ত নবী হচ্ছেন- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। ঈসা(আঃ)(যিশু), মূসা(আঃ)(মোজেস) এবং অন্যান্য নবীরা এক আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মেনে নেয়ার মাঝেই শান্তি খুজেছেন বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করে।

ইসলাম এবং মুসলিমদের সম্পর্কে প্রচুর ভুল ধারণা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে লেখার চেষ্টা করব। যেমনঃ মুহাম্মদ(সাঃ) ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নয়, প্রচারক। এখন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেব যা সাধারণত জিজ্ঞাসিত হয়-

  • ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক বা, প্রতিষ্ঠাতা কে? উত্তরঃ মুসলিমদের মত অনুসারে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক আল্লাহ স্বয়ং। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৬১০ খ্রিস্টাব্দে নবুয়ত পান, এর আগে বহু নবী রাসূল এসেছেন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আঃ) একজন মুসলিম ছিলেন, মূসা(আঃ), ঈসা (আঃ) এই নবীরাও ছিলেন মুসলিম বা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী।
  • ইসলাম ধর্মের মূল বাক্য কি? উত্তরঃ ইসলামী শাহাদাহ- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ(কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ছাড়া এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ প্রেরিত রাসূল)
  • ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলো কি যা অমুসলিমদের ভেতর আছে? উত্তরঃ প্রচুর ভুল ধারণা রয়েছে। যেমনঃ খৎনা না করলে মুসলিম হয় না, মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রচারের পূর্বে এই ধর্মের কোন অস্তিত্ব ছিল না(ইহুদিদের দেখলেই বুঝবেন এটি আগেও ছিল), মুসলিমরা ধার্মিক হলে সন্ত্রাসী হয়ে যায় অন্যরা হয় না(পৃথিবীর ইতিহাস দেখলে এবং যুক্তি দিয়ে ভাবলে এই ভুল কেটে যাবে। পৃথিবীর ৫৫ টি দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সেই দেশগুলো সন্ত্রাসী নয়। অমানবিক আচরণের ইতিহাস রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে যাদের লোভ ছিল তাদের মাঝে খুজে পাবেন এবং পৃথিবীর প্রত্যেকটি জাতিতে), মুসলিমরা যুক্তি বুঝতে চায় না(অনেক মুসলিম ধর্মপ্রচারক আছেন যারা বিতর্কে অংশ নেন এবং যুক্তিখন্ডন করেন), মেয়েদেরকে মর্জাদা দেয় না(অন্য সব ধর্মের চেয়ে ইসলামে মেয়েদের মর্জাদা বেশী দেয়া হয় বলে মুসলিমরা দাবি করে), সৌদি আরব আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র(কিংডম অফ সৌদি এরাবিয়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নাম, রাজতন্ত্রও ইসলামিক না- কুরআন এবং হাদিস ইসলামের উৎস, কোন দেশ না), মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি মুসলিমরা পালন করে(ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের আদর্শ মেনে চলে না। কুরআনের আদর্শ মেনে চলে যা নির্দিষ্ট গন্ডিতে আবদ্ধ নয়। অশ্লীল নাচ, মদপান, লুঠ করা এটিও একসময় আরবের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল- ইসলাম সেটি নয়) এরকম আরো অনেক ভুল ধারণা আছে।
  • শিয়া সুন্নী এরা কাদেরকে বলা হয়? আমরা যদি শাব্দিক অর্থ দেখি তাহলে ‘শিয়া’ শব্দটির অর্থ অনুসারি এবং সুন্নী শব্দের উৎপত্তি সুন্নাহ থেকে। সুন্নীরা দাবি করে তারা রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর সুন্নাহ অনুসরণ করে। কুরআন ও হাদিসের অনুসরণ এদের বৈশিষ্ট্য। সুন্নী বলে পরিচিত ব্যক্তিরা ইসলামের প্রথম চার খলিফাকেই তাদের খলিফা হিসেবে সম্মান করে। শিয়ারা অপরদিকে আহলে বাইয়াতের অনুসারী, তারা নবীর বংশধরদের নেতৃত্বের পক্ষে। তাই তারা আলী ছাড়া বাকিদের মানতে চায় না। হাদিসের কালেকশনেও মতভেদ আছে, তাই ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

একেশ্বরবাদি এই ধর্মটি নিয়ে আপনাদের আরো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন করতে পারেন। উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হবে। 

 

তথ্যসূত্রঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *